Friday, 17 June 2016

চট্টগ্রামের মিমি মার্কেটে কাপড় বিক্রির নামে চলছে ‘ডাকাতি’

চট্টগ্রামের মিমি মার্কেটে কাপড় বিক্রির নামে চলছে ‘ডাকাতি’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ক্ষমা চাইল ব্যবসায়ী সমিতি

নগরীর অভিজাত মিমি সুপার মার্কেটের একটি রেডিমেট কাপড়ের দোকান ‘ইয়াং লেডি’। এ দোকানে গিয়ে দেখা গেল মেয়েদের ‘ফ্লোর টাচ’ নামক একটি পোশাকের দাম লেখা আছে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ কাপড়ের প্রকৃত ক্রয়মূল্য ৬ হাজার ৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ এই একটি পোশাকেই ইয়াং লেডির মালিক লাভ করছেন ১২ হাজার ৫০৫ টাকা। একই দোকানে আরেকটি কাপড়ের বিক্রিমূল্য লেখা ছিল ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এ পোশাকের প্রকৃত ক্রয়মূল্য যাচাই করে দেখা গেছে, ৪ হাজার ৫০০ টাকা মাত্র।

বিভিন্ন গোপন কোডে লেখা থাকে এসব পণ্যের দাম, যা ক্রেতাদের বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই বিক্রেতা তার ইচ্ছামতো দাম হাঁকছেন। ঠকিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। অনেকে আবার টেরি বাজার থেকে কাপড় কিনে, ভারত থেকে আমদানি করেন বলেও দাবি করেন। কিন্তু কাগজপত্র অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে প্রকৃত চিত্র।

বৃহস্পতিবার সকালে মিমি সুপার মার্কেটে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে কাপড় বেচা-বিক্রিতে এমন অসামঞ্জস্যের চিত্র দেখতে পান। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘এ যেন কাপড় বিক্রির নামে ডাকাতি।’

ঈদকে পুঁজি করে কাপড় বিক্রিতে অস্বাভাবিক দাম নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ার পর মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের শাস্তি দিতে চাইলে মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চান।

ভবিষ্যতে আর এমনটি হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধের কারণে প্রথমবারের মতো মুনাফালোভীদের ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে এ ধরনের কিছু হলে সরাসরি অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠানো হবে বলে হুশিয়ার করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মিমি সুপার মার্কেটের পাশে অভিজাত শপিংমল আফমি প্লাজায় গিয়েও বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখতে পান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ যেন কাপড় বিক্রি নয়, ডাকাতি। মিমি সুপার মার্কেটের আঁচল, আকর্ষণ, ইয়াং লেডিস, আফমি প্লাজার সেলিব্রেশন্স, সুরুচি কালেকশন, পারফিউম ওয়ার্ল্ড, লন্ডন লুক এবং সানমারের নিউ বাসাবিসহ প্রায় ২০টি দোকানে গিয়ে দামের এমন ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা দেখা গেছে। অনেকেই দেখাতে পারেননি ক্রয়মূল্যের রসিদ।

SHARE THIS

Author:

0 comments: