নকলের ভিড়ে আসল চেনা দায়
রাজধানীর খিলগাঁও বাজার থেকে ‘ফগ’ ব্রান্ডের ব্ল্যাক বডি স্প্রে কেনেন নয়াপল্টনের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। স্প্রের গন্ধ ঝাঁঝালো এবং স্প্রে করার ১০ মিনিটের মধ্যেই আর ঘ্রাণ থাকে না। অথচ তার ৬ মাস আগে তিনি অন্য একটি দোকান থেকে একই ব্র্যান্ডের যে বডিস্প্রেটি কিনেছিলেন তার ঘ্রাণ চমৎকার। আর সেটি থাকে প্রায় ১২ ঘণ্টা।
দুটি কৌটা নিয়ে ফগ পারফিউম ও বডি লোশন এবং ব্লুলেডি পারফিউমের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসবি ডিস্ট্রিবিউশনের বেগমবাজার অফিসে যান আনোয়ার। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন পরীক্ষা করে জানান, খিলগাঁও থেকে কেনা স্প্রেটি নকল। আগেরটি ছিল আসল। কারা এসব পণ্য নকল করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাধিক চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে মুনস্টার মার্কেটিং কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোডাউন থেকে ৪০ ট্রাক ভেজাল কসমেটিকস জব্দ করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক বেলায়েত হোসেন ওরফে বেলাল ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে আদালত থেকে সেগুলো ফেরত পাওয়ার পক্ষে রায় নেন। ভেজাল হিসেবে জব্দ পণ্যগুলোই তিনি আবার পুলিশের সহযোগিতায় রাতারাতি গোডাউনে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে বাজারে বিক্রির জন্য ছেড়ে দেন। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শুধু বডি স্প্রে নয় বাজারে নকল হচ্ছে দেশী-বিদেশী নামিদামি প্রায় সব ব্র্যান্ডের কসমেটিকস। বিশেষ করে যেসব কসমেটিকস বাজারে বেশি চলে সেগুলোই নকল করছে ভেজাল কারবারিরা। তাদের কারখানায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল কসমেটিকস জব্দ করেছে র্যাব-পুলিশ। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের দেয়া হয়েছে কারাদণ্ড ও জরিমানা। কিন্তু তাতেও এসব পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসব আয়োজন সামনে রেখে অন্যান্য পণ্যের মতো কসমেটিকস আইটেমেও ভেজালের মহোৎসব শুরু হয়ে যায়।
ভেজাল কসমেটিকস উৎপাদন ও বিক্রি করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী পকেট ভারি করলেও এর খেসারত দিতে হচ্ছে এসব পণ্য ব্যবহারকারীদের। অনেক দাম দিয়ে নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভেজাল কসমেটিকস পণ্য কিনে অজান্তেই চরম স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ফার্মাসিস্টদের বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল ও কিছু অনুমোদিত প্রসাধনীতেও নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। প্রসাধন সামগ্রীতে সাধারণত প্যারাবেন, ডাই ইথানল এমিন (ডিইএ), ডাইবিউটাইল থ্যালেট, বিউটিলেটেড হাইড্রক্সি এসিনল (বিএইচএ), লোকটার ডাই, কৃত্রিম ফ্রাগ্রানেস, পলি ইথিলিন গ্রাইকল, পেট্রোলিয়াম জেলি, খনিজ তেল, সোডিয়াম সালফেট জাতীয় কেমিক্যাল নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহৃত হয়। এগুলো বেশি মাত্রায় প্রয়োগ হলে মানবদেহে ক্যান্সার, এলার্জি, ত্বকের প্রদাহ, কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
ভেজাল কসমেটিকসের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘ভেজাল কারবারিরা বেশির ভাগ ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে কসমেটিকস তৈরি করে। যে পরিমাণ ফরমালডিহাইড থাকলে ত্বকের ক্ষতি হবে না, তারা সেটা মানে না। তারা কসমেটিসকে অনেক বেশি পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং এন্টি অক্সিডেন্ট ব্যবহার করে। এসব কসমেটিক ব্যবহার করলে এর প্রথম উপসর্গ হিসেবে ব্যবহারকারীর অ্যালার্জি দেখা দেবে। দেশীয় কিছু বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও তাদের পণ্যে এসব উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মানে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এমন নিখুঁতভাবে পণ্য নকল করা হয় যে, দোকানে উঠানোর পর আসল-নকল চেনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে নকল পণ্যের বিপণনের সবচেয়ে বড় বাজার রাজধানীর চকবাজার ও বেগমবাজার। এখানকার অধিকাংশ দোকানেই আসল পণ্যের পাশাপাশি নকল পণ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে যত কসমেটিকস পাওয়া যায় তার ৫০ শতাংশের বেশিই নকল। বর্তমানে যেসব পণ্য বাজারে বেশি নকল হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ক্রিম, নিভিয়া, গার্নিয়ার, পন্ডস পাউডার, সানসিল্ক শ্যাম্পু, ভাটিকা শ্যাম্পু, প্যান্টিন শ্যাম্পু, ডাভ শ্যাম্পু ও সাবান, হেডস অ্যান্ড শোল্ডার, হিমালয়া ফেসওয়াশ; তেলের মধ্যে ভাটিকা, কুমারিকা, আমলা, নবরত্ন, কুল; বডিস্প্রের মধ্যে ফগ, ব্লুলেডি, রয়্যাল মেরিজ, অ্যান্ট্যায়ার লাভ; জনসন সাবান, জনসন শ্যাম্পু, বেবি শ্যাম্পু, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপজেল, ভেসলিন, হেয়ারঅয়েল, হেয়ার জেল, হেয়ার কালার, লিপস্টিক, বডিওয়াশ, শেভিং জেল, ফোম, শেভিং লোশন, ফেসওয়াশ, টিউব মেহেদি ইত্যাদি। চকবাজার থেকে এসব ভেজাল পণ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত অতিলাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল পণ্য উৎপাদন করেন। ১০০ গ্রাম ওজনের একটি জনসন বেবি সোপের দাম পড়ে ৭০ টাকা। সেখানে ভেজালকারীদের উৎপাদন খরচ মাত্র ৫-৬ টাকা। তারা এগুলো পাইকারি বিক্রি করে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর খুচরা দোকানিরা বিক্রি করে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। কেউ কেউ পুরো ৭০ টাকায়ই নিয়ে নেন। অর্থাৎ আসল আর নকল পণ্যের মানে যতই পার্থক্য থাকুক দামে তেমন ফারাক থাকে না। শুধু লাভ আর লাভ। একটি ফগ ২৫০ এমএল কনটেইনার বডি স্প্রের দাম পড়ে ২৫০ টাকা। আমদানি মূল্য পড়ে ১৯০ টাকা। দোকানে দেয়া হয় ২২০ থেকে ২২৫ টাকায়। একই পণ্য তৈরিতে ভেজালকারীদের খরচ পড়ে ৪০ টাকার মতো। পাইকারি বিক্রি করে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর খুচরা দোকানি বিক্রি করেন ২০০ টাকা। ৫০০ এমএল সানসিল্ক শ্যাম্পু বাজারে দাম ৪৫০ টাকা। আমদানি খরচ পড়ে ৩৫০ টাকা, পাইকারি বিক্রি ৩৮০ টাকা। কিন্তু নকল ৫০০ এমএল শ্যাম্পু উৎপাদনে ব্যয় হয় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ১৫০ টাকা পাইকারি বিক্রি করলেও নকল উৎপাদনকারীর দ্বিগুণের বেশি লাভ হয়। খুচরা বিক্রেতারা দুই থেকে তিনগুণ লাভের আশায় নকল পণ্য বিক্রিতে উৎসাহ বোধ করেন।
কয়েকদিন আগে চকবাজারে দেবীদাস ঘাট লেনের শাহীন কসমেটিকসে অভিযান চালায় ঢাকা জেলা প্রশাসন ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। সেখানে দেখা যায় ইউনিলিভার, স্কয়ার, কোহিনুর, তিব্বত, জনসনসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির প্রসাধনী নকল করে বাজারজাত করছিল প্রতিষ্ঠানটি। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদান যা দিয়ে তারা তৈরি করে স্কিন কেয়ার ক্রিম, কোল্ড ক্রিম, বেবি অয়েল, ভেসলিন, মেহেদি, হেয়ারঅয়েল, ফেসওয়াশ, চুলের তেল, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, ফেয়ার অ্যান্ড বিউটি, এলিট রাঙ্গাপরী মেহেদি ও মেরিল ভেসলিন। এখান থেকে নিুমানের সাবান কেটে জনসন সাবান তৈরির ছাঁচ, সাবান ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
চকবাজারের হেকিম হাবিবুর রহমান লেন এবং ছোট কাটারা মেসার্স মিনু পারফিউমারি ওয়ার্কসে অভিযান চালিয়ে ভারতের নির্মা কোম্পানির আলতা ও ক্রিম হুবহু নকল করে বাজারজাত করতে দেখা যায়। এসব পণ্যের মোড়কে সবকিছুই হিন্দি ও ইংরেজিতে লেখা ছিল। মোম, ফিটকিরি, জেলি, নাইট্রিক এসিড ও রং মিশিয়ে তৈরি করা ‘কিরণমালা’ নামক টিউব মেহেদি। এছাড়া বংশালে ময়না হাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল জনসন সাবানসহ ৫ ট্রাক পণ্য জব্দ করা হয়। ওই অভিযানে দেখা গেছে, বাজারে সাধারণ সাবান ছাঁচে ভরে কেটে জনসন বেবি সোপ তৈরি করা হচ্ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে যে পরিমাণ কসমেটিকসের চাহিদা রয়েছে তার ১৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে দেশীয় বৈধ কোম্পানির উৎপাদনে। আর ১৫ শতাংশ আমদানি করা বিদেশী পণ্য। বাকি ৭০ শতাংশ কসমেটিকস নকল ও ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পুরান ঢাকার চকবাজার, জিঞ্জিরা, ইসলামপুর এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে এই নকল কসমেটিকস তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে।
নকল কসমেটিকস তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান কতটা ক্ষতি করতে পারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌনব্যাধি বিভাগের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার যুগান্তরকে বলেন, ‘মানহীন প্রসাধনী ব্যবহারে মুখের ত্বকে এবং শরীরের কোমল ত্বকে কালো দাগ, র্যাশ, গোটা, লাল হয়ে যাওয়া এলার্জি হয়। ব্যথা ও ইনফেকশন হতে পারে। স্থায়ী দাগ পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়া সাদা হয়ে যায়। ক্ষেত্রবিশেষ চুল পড়ে যায়, আবার যেখানে চুল হওয়ার কথা নয়; সেখানে চুল গজায়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিডনি ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।’
একই হাসপাতালের অপর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লে. কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব বলেন, ‘চর্মরোগীদের কাছে আমরা যখন জানতে চাই কি ব্যবহার করেন, তখন তারা কিছু ক্রিম, লোশনের কথা বলে। যার কিছু নমুনা আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলোতে মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান বিদ্যমান ছিল। রোগীদের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই জানা সম্ভব না তারা কি ব্যবহার করছে। নকল কসমেটিক ব্যবহারে ইমিডিয়েট এলার্জিক রিঅ্যাকশনে ব্যবহারকারী মারাও যেতে পারে। এমন ঘটনা আমরা দেখেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন এসব ব্যবহারে ত্বকসহ কিডনি এবং শরীরে অন্য অংশে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’
বিএসটিআইয়ের সাবেক পরিচালক কমল প্রসাদ দাস যুগান্তরকে বলেন, ‘কিছু কসমেটিকস আছে বিএসটিআইয়ের তালিকাভুক্ত নয়। কিছু আছে তালিকাভুক্ত। তালিকার বাইরেও অনেক ভালো মানের কসমেটিকস তৈরি হয়। তবে বিএসটিআই থেকে যেগুলোর লাইসেন্স নিতে হয় সেগুলো নকল হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিএসটিআই আইন অনুযায়ী জরিমানা ও দণ্ড দেয়া হয়।’
ভেজাল কসমেটিকস নিয়ে ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যুগান্তরকে বলেন, ‘মূলত অতিলাভের লোভে ব্যবসায়ীরা নকল কসমেটিকস তৈরি ও বাজারজাত করছেন। তারা বিদেশী ও দেশীয় নামি ব্র্যান্ডের কসমেটিকগুলো নকল করেন। রাজধানীর চকবাজারকেন্দ্রিক ভেজাল পণ্যের ব্যবসা বেশি হয়। বিভিন্ন অভিযানে দেখা গেছে, বাজারে যত ধরনের দেশী-বিদেশী কসমেটিক আছে তার ৫০ শতাংশেরও বেশি ভেজাল। যার অধিকাংশই বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশীয় নামিদামি কোম্পানির।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে নবজাতক শিশুদের জন্য কসমেটিকের যে প্যাকেট পাওয়া যায় সেগুলোতেই ভেজাল পাওয়া গেছে। এসব ভেজাল পণ্য ব্যবহারে শিশু বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তার শরীরের জ্বালাযন্ত্রণা হলেও সে বলতে পারে না।’
সম্প্রতি ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি বিবেচনায় এনে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর দেশে উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত সব প্রসাধনীর মান নির্ণয় করে একটি নীতিমালা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রণীত হলে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএন্ডসি’র মতো বাংলাদেশেও প্রসাধনীর মান নিয়ন্ত্রণ করবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, যা বর্তমানে সীমিত পরিসরে করে বিএসটিআই। প্রস্তাবিত নীতিমালায় প্রসাধন সামগ্রীতে কেমিক্যালের মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালার উদ্দেশ্যে ‘জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে আমদানি ও দেশে উৎপাদিত পণ্যের মান নিশ্চিত করা। প্রসাধনীতে ব্যবহৃত নানা ধরনের রাসায়নিকের ব্যবহার মাত্রা ও তার ক্ষতি সম্পর্কে উল্লেখ থাকবে। এছাড়া কোন রাসায়নিক পদার্থ কি পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে ওইসব নির্দেশনাও থাকে। ২২ ধরনের প্রসাধনীর প্রায় ৮০টি পণ্যে মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। নীতিমালার উপসংহারে বলা হয়েছে, সব প্রসাধনী উৎপাদককে নীতিমালায় বর্ণিত প্যারামিটার মেনে চলতেই হবে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো মানসম্পন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। নীতিমালা লংঘনকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও থাকবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. একে লুতফুল কবির যুগান্তরকে বলেন, দেরিতে হলেও ভেজাল কসমেটিক বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি ভালো। উন্নত দেশগুলোতে খাদ্যপণ্য এবং ওষুধের মতো প্রসাধনীর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্রতিষ্ঠান। যেমন আমেরিকায় মান নিয়ন্ত্রণ করে এফডি এন্ড সি (ফুড, ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিকস)। ক্ষতিকর রাসায়নিক সমৃদ্ধ মানহীন প্রসাধনী ব্যবহারে শুধু ক্যান্সার হতে পারে তাই নয়। এসব থেকে হতে পারে স্নায়বিক দুর্বলতা, এমনকি বিকল হতে পারে কিডনি।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া যুগান্তরকে বলেন, দেশে প্রস্তুত ও আমদানিকৃত প্রসাধন সামগ্রী পরীক্ষার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রস্তুতকরণের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হলে প্রসাধনীও ওষুধের মতো নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে।
0 comments: